আবদুল মান্নান সৈয়দ
বই - ১ টি

সব্যসাচী লেখক হিশেবে খ্যাতিমান আবদুল মান্নান সৈয়দ। কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিকরূপে প্রথম তিনটি গ্রন্থেই তিনি উঠে আসেন খ্যাতির শীর্ষস্থানে। তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭), প্রথম গল্পগ্রন্থ সত্যের মতাে বদমাশ (১৯৬৮) আর প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ শুদ্ধতম কবি (১৯৭২) তাঁকে কবি, গল্পকার ও সমালােচক হিশেবে প্রতিষ্ঠা দ্যায় এর মূলে আছে। তার আবাল্য সাহিত্যিক প্রস্তুতি এ তিনটি বই-ই বেরিয়েছিল মান্নান সৈয়দের তিরিশ বছর বয়সে পৌছােনাের আগে। তারপর তিনি অবিরল কাজ করে গেছেন কবিতায় গল্পে উপন্যাসে নাটকে কাব্যনাট্যে প্রবন্ধে সমালােচনায় গবেষণায় – অর্থাৎ সাহিত্যের সমস্ত পথে পথে ঘুরে ফিরেছেন।
আবার এর মধ্যে এদেশের লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনায়ও এক পুরােধা ব্যক্তিত্ব তিনি। তেমনি অগণন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন রেডিও, টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে। লেখাপড়া শিখেছেন রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল, নবাবপুর। স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৯। সালে মুনীর চৌধুরী একটি ভাষণে আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পর্কে বলেছিলেন, 'আমি বুঝতে পারি, ওর অন্তরের যে যন্ত্রণা সে হচ্ছে যে, ও প্রতিমুহূর্তে উপলব্ধি করছে যে যারা ওর বিরুদ্ধ চেতনার লােক, যাদের কোনাে স্বপ্ন নেই, যারা শুধু পুরাতনের অনুকৃতিকারী, যারা একটা ক্ষয়িষ্ণু সমাজকে চমকের আবরণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তাদের কোনাে কথার সঙ্গে যেন ওর কথা না মেলে।
এইটের জন্যেই ও প্রধানত ব্যতিব্যস্ত। এবং এজন্যেই ওরা সব সময়। এইসব অতিব্যবহৃত শব্দ পরিত্যাগ করে স্বাদে, গন্ধে, আঘ্রাণে নতুন–এমন কিছু চেতনার সম্পদ আবিষ্কার করতে চায়।' মুনীর চৌধুরী-কথিত এই চেতনার সম্পদ আবিষ্কার করে চলেছেন মান্নান সৈয়দ গত পাঁচ দশক ধরে তাঁর কবিতায় গল্পে উপন্যাসে নাটকে কাব্যনাট্যে সমালােচনায় প্রবন্ধে গবেষণায় জীবনান্বেষায়।

ক্যাটাগরী